1. theprovatibarta@gmail.com : admin : Abu Taher Prince
বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন
প্রধান খবর
বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে নিয়ে টুকরো স্মৃতি করোনায় আক্রান্ত এমপি বাবু উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ করে দেয়া আহ্বান পুতুলের কয়রা-পাইকগাছাবাসীকে এমপি বাবু’র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা কমমূল্যে পাওয়া যাবে করোনার ভ্যাকসিন ইদ-উল-আযহা উপলক্ষেএতিম শিশুদের মাঝে জেলা প্রশাসন খুলনার উদ্যোগে গরু-ছাগল বিতরণ এমপি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ করোনায় আক্রান্ত ফের শারিরিক অবস্থার ফের অবনতি ডা. জাফরুল্লা’র করোনায় জীবনরক্ষাকারী প্রথম ওষুধ পাওয়া গেছে কবি প্রণতি। রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পে প্রকৃতি ও মানব জীবন কয়রায় করোনায় বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে এম আলিউজ্জামান তায়জুল ভোর রাতে রোজাদারদের মাঝে স্বপ্নযাত্রীর সাহরী বিতরণ জমিজমা বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত করোনায় আক্রান্তদের জন্য তৃতীয় বারের মত বাংলাদেশকে সহযোগিতা ভারতের মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসুন: সাংসদ বাবু খুলনা জেলা প্রশাসনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শাক-সবজি, দুধ, ডিম কেনা যাবে করোনা সন্দেহে আইসিউতে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন সপ্তম বছরের মত অসহায় কৃষকের ধান কাটছে স্বপ্নদেখো!! নাইকো মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে জয় পেল বাংলাদেশ
add

রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পে প্রকৃতি ও মানব জীবন

  • শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

আবু তাহের প্রিন্স

        বিচিত্র ও বিষ্ময়কর প্রতিভার অধিকারী, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল বিশ্ব কবি, বাংলা ছোট গল্পের জনক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।তার ছোট গল্পে প্রকৃতি ও মানব জীবনের যে বৈচিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তা অভুতপূর্ব।মানব মনের ভাবনা ও নিসর্গ চেতনা আপন ভুবনে তুলির আঁচড়ে অঙ্কন করেছেন। তার গল্প ধারার একটা বড় অংশই মানুষ ও প্রকৃতির অন্তরঙ্গ মেলবন্ধন। তেমনি তার ছোট গল্পে উঠে এসেছে পল্লি বাংলার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ, বেদনার প্রতিচ্ছবি। তার তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও জীবন ঘনিষ্ঠ ভাবনায় নানান ভাবে, নানান রুপে প্রকাশ পেয়েছে মানব জীবনে বৈচিত্যময় অনুভুতি।

        রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আপন শিল্পগত সততা ও গভীর মমত্ববোধের উপর দাড়িয়েঁ আছে বাঙলা সাহিত্যে ছোট গল্পের স্বীকার্যতা। মানুষের প্রতি গভীর প্রেম, প্রকৃতির প্রতি নিবিড় আকর্ষণ দু’য়ে এক হয়ে তার ছোট গল্পকে করে তুলেছে মহিমান্বিত। তার প্রত্যেকটি ছোটগল্প যেন ঘনিষ্ঠভাবে স্বদেশ ও স্বকাল লগ্ন। সাথে সাথে সর্বকালের সর্বমানুষের মানব ভাবনার প্রকাশ স্থল। জীবন বোধের সততা ও অনুভুতির গভীরতা অতিক্রম করেছে দেশ কালের গন্ডি। প্রতিটি গল্পের অন্তরালে পাওয়া যায় লেখকের জীবন ও শিল্পের উপলব্ধি। একটি সার্থক ছোট গল্পের জন্য প্রয়োজন সহজ সরল মানব হৃদয়ের আন্তরিক গভীরতা ও সুখ-দুখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ পূর্ণ দৈনিন্দন জীবনের চির নান্দনিক ইতিহাস।

        রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ছোট গল্পে কলম ধরেছেন অতীত বিবেচনা, সামাজিক ভন্ডামি, মঙ্গলের নামে মিথ্যাচার, আদর্শের নামে ব্যবসাদারি এসব সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে। তার সার্থক সৃষ্টি গুলোর মধ্যে অন্যতম “হৈমন্তি”; “ছুটি”;”পোষ্টমাস্টার”; “অপরিচিতা”; “মাল্যদান”; “কাবুলিওয়ালা”; “নিশীথে”; “সুভা” প্রভৃতি। অপরিচিতা গল্পটি সবুজ পত্রে প্রকাশের সময় সবুজপত্রের সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীকে তিনি লিখলেন- “আমাদের বর্তমান সাহিত্য মানুষকে গাল দেয় কারণ তাতে পৌরুষ নেই বরঞ্চ সেটা কাপুরুষেরই কাজ। কিন্তু যেখানে যথাই বীর্যের দরকার সেখানে দেখতে পাই বড় বড় সাহিত্যিক পান্ডারা কেবল পোষা কুকুরের মত ল্যাজ নাড়ছে আর সে বৃদ্ধ পাপের পঙ্কিল পা আদর করে চেটে দিচ্ছে” (চিঠিপত্র-৫, পত্র-৫)।

        পল্রি থেকে শুরু করে ঘরোয়া জীবনের সুখ-দুঃখ ও আশা নিরাশার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে। গল্পকার হিসাবে আমরা দেখতে পাই তার চিন্তা চেতনা যেমন তীক্ষ্ম, পর্যবেক্ষন শক্তি তেমন প্রখর, উচ্চারনের ভাষা প্রতিবাদী। এসব দিক তার সমস্ত গল্পে নানাভাবে ও নানা রুপে প্রকাশ পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে আনোয়ার পাশা বলেছেন- “রবীন্দ্রনাথ তার গল্পে কোন প্রকার ঐতিহাসিক বা ঔপনিবেশিক বিড়ম্বনায় সাধারণত যান নি, তার গল্পের বিষয় হচ্ছে ক্ষুদ্র সুখ-দুখ পূর্ণ মানবের দৈনিন্দন জীবন”। তাই বলে সহজ সরল মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখকে নিয়ে তিনি কোন অলৌকিক সৌন্দর্যলোকের সন্ধান করেন নি। তার গল্পে তিনি মাটি ও মানুষের কাছাকাছি থেকে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষকে প্রত্যাক্স করেছেন।

        রবীন্দ্রনাথ তার বেশ কিছু গল্পে পিতৃহৃদয়ের অভিব্যক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, স্নেহ ভালবাসা, সুখ-স্মৃতি অতি নিখুতভাবে তুরে ধরেচেন। “কাবুলিওয়ালা” গল্পে অত্যান্ত সুন্দরভাবে পিতৃহৃদয়ের শোকাহত ও চিরন্তন রূপটিকে উন্মোচন করেছেন। এ গল্পে শাশ্বত পিতৃহৃদয়ের জয় জয়কার ধ্বনিত হয়েছে। “দেনা পাওনা” গল্পে লেখক একজন পিতার অসহায়ত্ব, নির্যাতিত, অপমানিত ও লাঞ্ছিত জীবনের ছবি এঁকেছেন। “অপরিচিতা” গল্পে আমরা একজন ব্যতিক্রমী কন্যার পিতাকে পাই। “হৈমন্তি” গল্পে আমরা খুজে পাই একজন অসহায় পিতার মর্মবেদনা।

        ১৮৯১ সালে তিনি যখন স্থায়ীভাবে জমিদারি পরিচালনার ভার গ্রহন করেন, তখন থেকে তার সাথে বাংলার দেহ মনের সম্পর্ক নিবিড় হয়ে ওঠে। আর এ সমস্ত রবীন্দ্রনাথের বেশির ভাগ ছোটগল্প রচিত। তাই তো তার ছোট গল্পে আমাদের কর্মময় ব্যস্ত পৃথিবীর এক নিভৃত প্রান্তবাসী শান্ত বাঙালির জীবন রুপটি যথার্থ রূপে প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা চলে ছোট গল্পে অজস্র বর্ণনায় বাংলার গ্রাম জবিন যেমন সার্থকভাবে ফুটেছে তেমন আর কোথাও সার্থক ভাবে প্রকাশ পেয়েছে মনে হয় না। বাংলাদেশের প্রকৃতি যেমন বিচিত্র তেমনি মানুষগুলো বৈচিত্র সৌন্দর্য নিযে তার ছোট গল্প গুলো আবিভুত হয়েছে। সাথে সাথে বাঙালি জীবনের খুটিনাটি ধরা পড়েছে তার ছোট গল্প সম্ভারে।

        সমাজের সবৃস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বিরহ-বেদনা স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে। বিশেষ করে তিনি বিচিত্রিত করেছেন তার কলমের সুক্ষ্ম আঁচড় দিয়ে বাংলার সর্বস্তরের নালী জীবনের লাঞ্ছনা, গঞ্জনা নিপীড়ন। “দেনা পাওনা” গল্পের নিরুপমা চরিত্রটির মধ্য দিযে একদিকে সমাজের প্রতি ধিক্কার এবং নারী হৃদয়ের অন্তবেদনা প্রকাশিত হয়েছে। “সুভা” গল্পে যে জীবনকে আমরা প্রত্যাক্ষ করেছি তা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনা, সুভা মেয়েটি মূক, তার ভাষা বোঝে পশুপাখি, গাছপালা, অর্থাৎ তারই মত যারা মূক। এ মেয়েটি তার চিরচেনা পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিয়ে দেওয়ার ফলে তার জীবনে নেমে আসে করুন পরিণতি। কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়ল সুভা ভাষাহীন। আলোচ্য গল্পে লেখক একজন ভাষাহীন নারীর আত্নিক যন্ত্রনাকে প্রকাশ করেছেন। “অপরিচিতা” গল্পে কল্যানী এবং “মানভঞ্জন” গল্পের গিরিবালার জীবনের করুণ কাহিনী সকল শ্রেনির পাঠক চিত্তকে সমভাবে সিক্ত করে তোলে। স্বামীর অন্যায় আচরণে নারী কিভাবে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে তার উজ্জল দৃষ্টান্ত “মানভঞ্জন” গল্পের নায়িকা গিরিবালা। “মাল্যদান” গল্পটিতে সরল হৃদয়ের বালিকা কুড়ানির সংকোচহীন হৃদয়ে নতুন প্রেমোন্মেষের রমনীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একজন নারী কিভাবে সমাজের অনিয়মে পড়ে নিঃশেষ হয়ে শেষে মৃত্যুর মুখে নিজেকে সপে দিয়েছে তারই এক করুন কাহিনী চিত্রিত হয়েছে “মহামায়া”গল্পে।

        মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে প্রকৃতির দারুণ সদভাব লক্ষ্র করা যায়। সুখে-দুঃখে প্রকৃতি যেন মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়। যেন তাহার হইয়া কথা কয়। নদীর কল কল ধ্বনি মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর ধ্বনি সমস্ত মিশিয়া চারিদিকের চলাফেরা আনন্দোলন কম্পনের সহিত এক হইয়া সমুদ্রের তরঙ্গ রাশির ন্যায় বালিকার চিরনিস্তব্ধ হৃদয় উপকূলের নিকটে আসিয়া ভাঙ্গিয়া আছড়িয়া পড়ে”। প্রকৃতির এই বিবিধ শব্দ এক বিচিত্র গতি তাও বোবার ভাষা, ঝিল্লির পূর্ণতৃণ ভূমি থেকে শব্দাতীত নক্ষত্রলোক পর্যন্ত কেবল ইঙ্গিত ভাষ্য, সংগীত, ক্রন্দন এবং দীর্ঘশ্বাস। বৃহৎ প্রকৃতি একটা বিরাট রহস্যে ঘেরা তার বাক্যহীনতায়।

        “নিশীথে” গল্পে দক্ষিণাচারণ বাবু তার প্রথম স্ত্রী মনোরমাকে যতেষ্ট ভালোবাসতেন। একদিন জোছনারাতে বকুল তলায় নিস্তব্ধতায় তারা নীরবে বসেছিল। লেখকের ভাষায়- “দু’টি একটি একটি করিয়া প্রস্ফুট বকুল ফুল ঝরিতে লাগিল এবং শাখান্তরাল হইতে ছায়াঙ্কিত জোছনা তাহার শীর্ণ মুখে আসিয়া পড়িল”। চারিদিকে শান্ত নিস্তব্ধ সে ছায়ান্ধকারে এক পার্শ্বে নীরবে বসে দক্ষিণাচারণ বাবু তার স্ত্রীকে আবেগে বিহবল কন্ঠে বলেছিল- “তোমার ভালবাসা আমি কোন কালেও ভুলিব না”। “মাল্যদান” গল্পের মধ্যেও প্রকৃতির সজীব উপস্থিতি অনুভব যোগ্য”। “খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন” গল্পটিতে ট্রাজেডির মুলে ছিল প্রকৃতির প্রতি শিশুমনের প্রবল আকর্ষণ। প্রকৃতির বর্ণনা আছে “সম্পত্তি সমর্পন”; “কাবুলিওয়ালা”; “পোষ্টমাস্টার” গল্পেও।

        সমালোচকের মতে, রবীন্দ্রনাথ তার ছোট গল্পে কল্পনার বেগ সামলাতে না পেরে বাস্তব ছেড়ে কল্পনাতে বিলীন হয়ে গেছেন। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ন ভুল। গল্পগুলো গড়ে উঠেছে আমাদের প্রত্যাহিক জীবনকে আশ্রয় করে। গোটা বাঙালিকে পাওয়া যায় তার ছোট গল্পে। শুধুমাত্র কল্পনা নয় মানব জীবনের নানা রকম ছোটখাট সংঘাত ও ভাললাগা ভালবাসার প্রতিফলন খুজে পাওয়া যায় তার গল্পে। এখানে বর্ণনা একেবারে জীবন্ত, শুধু বাস্তব ব্যঞ্জনায়ই নয়। পাতায় পাতায় শোনা যায় তার হৃদয় স্পন্দন। ঋতু বৈচিত্র্য, প্রাণ প্রতিম নদী স্রোত, বিশাল প্রান্তর, বাঁশবন, চন্ডিমন্ডপ, রথতলা, দুরন্ত কল্লোলে উৎসারিত পল্লি প্রাণ, বালক-বালিকা, বুদ্ধিমতি গৃহিনী, উনবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতার সুখ-দুখ, ব্যাথা-বেদনা, ব্যার্থতা ধরা পড়েছে তার ছোট গল্পে। গ্রাম বাংলার জীবনকে তুলে ধরেছেন তার কলমের নিখুত আঁচড়ে। রবীন্দ্রনাথের এ শ্রেনির গল্পগুলো একান্ত ভাবে গীতিধমী।

        যে রবীন্দ্র সাহিত্যে মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ব্যবহার বিচিত্র ও বহুল, সেখানে বিশেষ করে তার ছোট গল্পে প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের বিচিত্র ছবি অংকিত হয়েছে আপন মহিমায়। এখানে শিল্পরূপ প্রকাশ পেয়েছে মানব জীবনের প্রত্যাহিক জীবন আচরণে। বস্তুত তার ছোট গল্পে বাঙালির জীবন পরিবেশ প্রকৃতি ও পারিবারিক জীবনের যে বৈচিত্র প্রকাশ পেয়েছে তা সত্যি বিষ্ময়কর।

লেখক- কবি ও কলামিস্ট

সম্পাদক, দ্যা প্রভাতী বার্তা

add

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
add
© theprovatibarta 2020 All rights reserved. কারিগরি সহায়তা:
Theme Customized By BreakingNews